October 14, 2026, 12:37 am

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

সুগন্ধা পয়েন্টে অবৈধ ‘ড্রাগন মার্কেট’ এখনো অটুট

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। ফলে, বালিয়াড়ি অবৈধ স্থাপনা মুক্ত হলেও বিগত আওয়ামী সরকার আমলে সরকারি জমি দখল করে সুগন্ধা পয়েন্টে গড়ে উঠা ‘ড্রাগন মার্কেট’ এখনো দাঁড়িয়ে আছে। আওয়ামী লীগ আমলে বড় বড় নেতাদের ছত্রছায়ায় এই মার্কেট মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকলেও এখন আছে কার প্রভাবে—প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সুগন্ধা পয়েন্ট। অথচ পর্যটকদের হাঁটা-চলার জায়গায় বিগত সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত নাম ‘ড্রাগন মার্কেট’।

বছরের পর বছর প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ বাজারটি পরিচালিত হলেও উচ্ছেদ কার্যক্রম থেকে এটি বারবার পার পেয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের একটি চক্রের যোগসাজশে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এই সরকারি জমি রাতারাতি দখল করা হয়। সুগন্ধা পয়েন্ট সড়কের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে এই মার্কেটটি স্থাপন করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ‘মুজিব বাহিনী’ ও স্থানীয় আওয়ামী চক্রের সদস্যরা এই দখলবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন সময় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও জেলা প্রশাসন সৈকত এলাকায় অভিযান চালালেও রহস্যজনকভাবে ‘ড্রাগন মার্কেট’ বারবার উচ্ছেদ থেকে রক্ষা পেয়েছে।

২০২২ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চললেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে, ড্রাগন মার্কেট উচ্ছেদ না করে কেবল ছোটখাটো দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সৈকতের অবৈধ স্থাপনা সরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।

সৈকতের বালিয়াড়ি ঘেঁষে এমন অবৈধ বাজার গড়ে ওঠায় পর্যটকদের স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, ‘ক্ষমতার দাপটে গড়ে তোলা এসব স্থাপনা সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।’

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা এই মার্কেটের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা সুযোগবঞ্চিত হচ্ছেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কউক জানিয়েছে, সৈকত এলাকার সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে সুগন্ধা পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD